
বিয়ানীবাজারে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ছয়টি কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোনো কলেজই আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। অতীতের তুলনায় এবারই কলেজগুলোতে পাসের হার সবচেয়ে কম বলে জানা গেছে। পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে ১ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৮০২ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৮২ জন। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন।
বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের ফলাফল আরও হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৯৯ জন। ফেল করেছেন ২১৫ জন।
বৈরাগীবাজার আইডিয়াল কলেজে ১৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬০ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৮৯ জন। দুবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৬২ জন, ফেল করেছেন ১৩৯ জন।
অন্যদিকে সৈয়দ নবীব আলী কলেজে ২০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৪০ জন। বিয়ানীবাজার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ২১ জন। ফেল করেছেন ৫৯ জন।
সামগ্রিক ফলাফলে এমন হতাশাজনক পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেন উপজেলার সব কলেজেই একযোগে ফলাফলের এমন অবনতি ঘটল, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
খারাপ ফলাফলের জন্য অভিভাবকদের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি তোফায়েল হাসান তোহা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এ ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি না করে অনেক অভিভাবক শুধু ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করেন। ক্লাস কিংবা কোচিংয়ের কথা বলে সন্তানরা কোথায় সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার চেয়ে বিয়েকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
তবে ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে আরও গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ও লেখক আতাউর রহমান। তাঁর মতে, শুধু পাস-ফেলের পরিসংখ্যান দেখে এই বিপর্যয়ের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, প্রশ্নপত্রের কঠিনতা, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মান এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে হবে। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করলেই ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিয়ানীবাজারের কলেজগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ফলাফলের অবনতি হয়ে থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কলেজ পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।